শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
 
শিরোনাম: ...একটু জোরে ধাক্কা দিলেই কিনারায় পড়ে যাবে : জাফরুল্লাহ চৌধুরী       প্রথম ধাপের ২৫ পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার টিকিট পেলেন যারা        হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে হবে       ৭ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত       করোনা দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে মাস্কের চাহিদা বেশি, বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে       ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিতর্কের সৃষ্টি করছে: কাদের       দেশে একদিনেই ৩৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৯০৮       


এলপিজি, সিমেন্টসহ সবজায়গায় কামড়াকামড়ি চলছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ৫:৫৯ পিএম |

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এমজেএল লুব্রিকেন্টের পরিচালনা বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, ফুড মেডিসিনের পরেই লুব্রিকেটিং ওয়েল খুবই গুরুত্বপুর্ণ, এটা সাংঘাতিক ক্রিটিক্যাল। এটি ভালো না হলে ইঞ্জিন সিজ করবে, কুলিং কম হবে অনেক সমস্যা হতে পারে। আমি অবাক সরকার কেনো এদিকে নজর দিচ্ছে না। আমাদের এলপিজি, সিমেন্টসহ সবজায়গায় কামড়াকামড়ি চলছে। প্রত্যেকটি শিল্পে এটি ঢুকে গেছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে রেগুলেটর নিজে ব্যবসায় ঢুকে গেছে। লুব্রিকেটিং ওয়েল সেক্টরের একই সমস্যা দেখছি। স্টান্ডার্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো ল্যাবরেটরি নেই।

তিনি বলেন, রিসাইকেলিং ওয়েলে যে সমস্যা একই সমস্যা ছিল ব্যাটারী রিসাইকেলিংয়ে। তারা মনে করেছিল ফ্রি দিয়ে যাবে। আপনারাও একইভাবে কিছু পে করে সংগ্রহ করতে পারেন। বাজারে অনেক প্রতিযোগি রয়েছে, বিপিসি এখানে রেগুলেটর হিসেবে থাকলেই ভালো।

এনার্জি এন্ড পাওয়ারের এডিটর মোল্লাহ আমজাদ হোসেন সঞ্চালনা করেন। তিনি বলেন, জাতি হিসেবে ট্রেডিং প্রিয়। লুব্রিকেন্ট ওয়েলের চাহিদা ১ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন, মার্কেট সাইজ পাঁচ হাজার কোটির টাকার মতো। ছোট্ট মার্কেট কিন্তু দুনিয়ার এমন কোনো জ্ঞাত ব্রান্ড নেই যা পাওয়া যায় না। অনেক আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডের লুব তৈরি হচ্ছে দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা সম্ভব। বাংলাদেশের বাজার আমদানি নির্ভর হলো কেনো! বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভেজাল ও মানহীন পন্য বিক্রি হচ্ছে। অনেক সময় বেজড ওয়েলের চেয়েও কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। শিল্প এবং ট্রান্সপোর্টকে সুস্থ রাখতে লুব্রিকেন্ট জরুরি। দুনিয়াশুদ্ধ ল্যাব শেয়ারিং কালচার চালু রয়েছে। আমাদের এখানেও এটি হতে পারে।

এনার্জি এন্ড পাওয়ারের কনসালটেন্ট এডিটর প্রকৌশলী খন্দকার সালেক সুফী বলেন, বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডগুলো আপডেট করা হয় নি। তিনটি রেগুলেটর এর মধ্যে একটি নিজে একজন বিক্রেতা। বিএসটিআই মান সেট করে দিতে পারে। সাব-স্ট্যান্ডার্ড কেউ আনলে পুলিশিং করতে হবে।

মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বাজারের যে চাহিদা দু’ই কোম্পানি সাপ্লাই দিতে পারে। এ কথা সত্য নয়, যে আমদানির উপর পুরোপুরি নির্ভর করা দরকার। বিপিসি আমদানি করে বাজারজাত করছে, এটি না করে রয়েলিটির মাধ্যমে এসব বাজারজাত করতে পারে। আমরা অনুরোধ করবো আমদানি করার আগে যেখান থেকে আনতে চায় তাদের ও আমাদের প্লান্টগুলো ভিজিট করে দেখুক। আমাদের সক্ষমতা কতটুকু।

ল্যাবরেটরি সংকট প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের (মবিল) ল্যাবরেটরিকে অ্যাক্রিডেট করা হলে আমাদের ল্যাবরেটরি ব্যবহার করতে পারে। দেড় হাজার কোটি টাকা খরচ করে রিরিফাইনিং প্লান্ট করা হচ্ছে। ব্রাজিলে আর কোনো আমদানি করা হয় না। রিরিফাইনিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, কোম্পানিগুলো যে চ্যানেল দিয়ে বিক্রি করছে, সেই চ্যানেল দিয়ে ব্যবহৃত লুব সংগ্রহ করা যায় কি না। একটি ব্লান্ডিং প্লান্টে অনেকে করতে পারে। বিশ্বে অনেক ব্র্যান্ড এমন করছে। আমাদের এই সেক্টরে কোনো বিদেশি লোক কাজ করছেনা। দেশীয় শিল্পকে সুযোগ করে দিতে হবে, না হলে টেকনোলজি ট্রান্সফর হবে না। বিপিসি যে পলিসি নিয়েছে আত্মবিধ্বসী পলিসি হবে।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাইফুল্লাহ খালেদ বলেন, ১৯৯৭ সালে ২টি, কারখানা ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে প্লান্ট রয়েছে ১৫টি, আরও ৩টি আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্ডার ইনভয়েসে এনে. মার্কেটে কারসাজি রয়েছে। এখন ট্যারিফ ভ্যালু করা হয়েছে ২ হাজার ডলার। আমাদের নিজেরা আড়াই হাজার ডলার দিয়ে আমদানি করছি। অনেক সময় দুবাই থেকে আমাদের প্রোডাক্ট এনে কমদামে বিক্রি করছে। অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে মার্কেটে টিকতে না পেরে।

রিসাইকেল ওয়েলের জন্য তিনটি ব্যান্ডিং প্লান্টকে অনুমোদন দিয়েছে।এর বাইরে ভুইফোড় ৩০টি মতো রয়েছে  ওরা জাহাজ, পাওয়ার প্লান্ট, ট্রানসফরমার ওয়েল এক ড্রামে রেখে ব্লিসিং পাউডার দিয়ে রেখে দিচ্ছে। জমে গেলে উপর থেকে বিক্রি করছে। এতে কোয়ালিট থাকছে না, মেশিন লাইফটাইম হারাচ্ছে। ব্যবহৃত ওয়েল ওনারা ওপেন টেন্ডারে বিক্রি করছেন। দেশের স্বার্থে রিসাইকেল ব্র্যান্ডের কাছে বিক্রি করা প্রয়োজন।রেগুলেটরি বডি বিইআরসি ঠুটো জগন্নাথ, তাদের না আছে লোকবল না আছে ল্যাবরেটরি।

বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. বায়েজিদ কবীর বলেন, নিজস্ব কাঁচামাল নেই লুবের। এই সেক্টরের বড় সমস্যা। নতুন নতুন টেকনোলজি আসছে, স্ট্যান্ডার্ডগুলো সেভাবে আপডেট করা হয় নি। কাস্টমস থেকে কিছু টেস্টিংয়ের জন্য আসে এটি অনেকটা অনুরোধে ঢেঁকি গেলানোর মতো। অনেকগুলো আউট গ্রেডেড হয়ে গেছে। মাকের্টে কিছু লো-গ্রেডেল লুব্রিকেন্ট রয়েছে। প্রোপার ওয়েতে কালেন্ট করে রিসাইকেল করা গেলে ৬০ শতাংশ চাহিদা পুরণ করা সম্ভব। এতে দুইভাবে উপকার পাওয়া যাবে, এক ফরেন কারেন্সি সেভ হবে, অন্যদিকে নিম্নমানের প্রোডাক্ট কমে যাবে।

এমজেএল লুব্রিকেন্ট’র সিইও মুকুল হোসেন বলেন, হায়ার ভ্যালু ব্র্যান্ডের ড্রামে লোকাল ব্র্যান্ডের লুব করা হচ্ছে। এখানে কালো টাকা সাদা করার জন্য বিনিয়োগ হচ্ছে। বিপিসি, বিএসটিআই ও বিইআরসি, নখ দন্তহীন বাঘ। ট্রেস্টিং করার মতো দক্ষতার অভাব রয়েছে। বুয়েটে রেজাল্ট ভিন্ন আসে। আমরা এখনও ১৯৫৭ এ রয়ে গেছি। কতগুলো রিটেইলার একত্র হয়ে এলসি খুলছে। যা ঘোষণা করছে পরীক্ষায় সেই মান পাওয়া যাচ্ছে না।

বিপিসি যেভাবে টেন্ডার কল করেছে, তাতে মনে হচ্ছে একটা কিংবা দু’টি পার্টিকে কাজ দেওয়ার জন্য টেন্ডার করেছে। দেখে মনে হচ্ছে মালয়েশিয়া এবং দুবাইকে কাজ দেওয়ার জন্য এমন কিছু শর্ত যুক্ত করেছে। টেন্ডারের মাধ্যমে এনে কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এইসি ও ওএম ছাড়পত্র ও  কন্ডিশন ৪,৫,৬,৭ মবিল নিজেও পারবে না। নিয়ন্ত্রক যদি নিজেই যদি ব্যবসা করে তাতে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এখানে রি-রিফাইনিং করার কথা বলা হয়েছে। ভিন্ন প্রোডাক্ট একখানে করে রিসাইকেলিং করা হলে ক্যাটাগরি ঠিক থাকে না। খুব শিগগিরই মনে হয় প্রকাশ হবে। ফরমুলেশনের ভিত্তি করে, বেজড অয়েলের স্পেসিফিকেশনের মাম্য রিরিফাইন করা হবে। বিপিসি তার কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে ৪টি ইন্টারন্যাশনালসহ মোট ১০টি প্রোডাক্ট বাজারজাত করছে। নতুন ব্র্যান্ড কেনো প্রয়োজন হলো বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, বিএসটিআইকে বলেছিলাম, আপনাদের টেকনিশিয়ান এনে আমাদের মেশিনে টেস্টিং করতে পারেন। টেস্টিং করতে কয়েকদিন লাগে, সেদিন পর‌্যন্ত যদি বন্দরে আটকে থাকে তাহলে খরচ বেড়ে যায়। অসাধু কারবারিদের ধরতে শুধু ক্যাপিটাল শাস্তি দিলেই হবে না।এতে পরদিন স্থান পরিবর্তন করে একই কাজ করছে।

তিনি বলেন, মেশিনে কিছু ড্যামেজ হবে। সব মিলিয়ে ৫০ শতাংশ সংগ্রহ করা সম্ভব। এখান থেকে আবার রিরিফাইন করতে ৩২ শতাংশ ওয়েস্ট হবে। তবে হ্যাঁ বড় একটি অংশ রিরিফাইন থেকে পাওয়া সম্ভব।

ইশতিয়াক, সেলস এন্ড মার্কেটিংয়ে আছি পনের বছর ধরে। যারা প্রোডাক্টগুলো আনছে যারা আনছে সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য কোয়ালিটির বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না।







 সর্বশেষ সংবাদ

'তওবা মুমিন জীবনে সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে'
...একটু জোরে ধাক্কা দিলেই কিনারায় পড়ে যাবে : জাফরুল্লাহ চৌধুরী
উত্তরা থেকে ৪ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩
গফরগাঁওয়ে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি
বোরো বীজ তৈরিতে ব্যাস্ত কৃষকরা
জৈব উপাদান দিয়ে ইট ভাটার জমির উর্বরতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব!
মোশাররফ-প্রভার ‘চাঁন বিরিয়ানি’  ১০০ পর্বে
আরো খবর ⇒

 সর্বাধিক পঠিত

রাজধানীতে কাল কম্বল বিতরণ উদ্বোধন করবেন জিএম কাদের
দেশ জাতি ও মানুষের জন্য যেন কাজ করতে পারি: এম.এন.এইচ বুলু
ফিল্ম ফেয়ারে মনোনয়ন পেলেন বাংলাদেশের ইশরাত তন্বী
পাথরঘাটা হানাদারমুক্ত দিবস পালিত
‘গোল্ডেন’ সহযোগিদের গা ঢাকা
সিরাজগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (১০তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]