শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
 
শিরোনাম: প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী       আগাম জামিন চাইলেন পাপুলের স্ত্রী-মেয়ে-শ্যালিকা       নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খালে, নিহত ৪       দেশ জাতি ও মানুষের জন্য যেন কাজ করতে পারি: এম.এন.এইচ বুলু       পরমাণু বিজ্ঞানী হত্যার কঠিন প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা ইরানের       ভাস্কর্য তৈরি হলে টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেব: বাবুনগরী       পেনসিলভেনিয়ার মামলায়ও ট্রাম্পের হার      


সবজির দাম কমলেও বেড়েছে চাল ও তেলের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০, ৪:০৪ পিএম |

অগ্রহায়ণের শেষ প্রান্তে শীতের আমেজে বাজারে বাড়তে শুরু করেছে সবজির জোগান, কমছে দামও। এতে কয়েক মাস ধরে চলা সবজির বাজারের অস্থিতিশীলতা কমতে শুরু করলেও নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে চাল ও তেলের দাম। এ দুটি পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা ও পাইকারিতে মিনিকেট চালের দাম গত ১০ দিনে কেজিতে দু-এক টাকা করে বেড়েছে। একইভাবে বেড়েছে স্বর্ণা ও বিআর-২৮ চালের দামও। অবশ্য নতুন আসা পাইজাম, মিনিকেট ও স্বর্ণা চালের দাম কেজিতে দু-এক টাকা কম পাওয়া যাচ্ছে।

রাজধানীর মগবাজারে ডিপার্টমেন্ট স্টোরের বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মিনিকেটের দাম বাড়ার কোনো কারণ বুঝতে পারলাম না। যদিও এবার ধানের দাম অন্যবারের চেয়ে বেশি যাচ্ছে। পুরান ধানের দামও বেশি, নতুন যে আমন এসেছে তার দামও কিছুটা বেশি বলে জানতে পেরেছি।’

তিনি জানান, রশিদের মিনিকেট চালের বস্তা (৫০ কেজি) দুই হাজার ৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে এখন দুই হাজার ৭৫০ টাকা হয়েছে। গুটি স্বর্ণা দুই হাজার ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে দুই হাজার ২৫০ টাকা হয়েছে। নতুন আমন ধানের পাইজাম বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৩৫০ টাকায় এবং পুরান পাইজাম চাল দুই হাজার ৪৫০ টাকায়।

‘সবকিছু মিলিয়ে চালের দাম এখন বাড়তি। সিদ্ধ কাটারি বিক্রি হচ্ছে প্রতি বস্তা দুই হাজার ৬০০ টাকায় এবং নাজিরশাইল প্রতি বস্তা এখন দুই হাজার ৭২০ টাকা,’ বলেন হাবিব। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার। এই বাজারের রবিউল রাইস এজেন্সিতে মিনিকেট প্রতি বস্তা দুই হাজার ৬৫০, নাজির দুই হাজার ৭০০, বিআর আঠাশ দুই হাজার ৪০০, পাইজাম দুই হাজার ৩৫০ ও গুটি স্বর্ণা দুই হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানকার বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম জানান, ১০ দিন ধরেই চালের দাম বস্তায় ৫০ থেকে ৭০ টাকা বাড়তি। কেনা দাম বেশি পড়ায় খুচরায়ও দাম বেড়েছে।

এদিকে গত ১০ দিনে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে অন্তত পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে বলে কারওয়ান বাজারের দোকানিরা জানিয়েছেন। দুই মাস ধরেই বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছিল। এখন নতুন করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলো। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন তেলের দামও এই সপ্তাহে কেজিতে দু-তিন টাকা বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, পুষ্টি ব্র্যান্ডের দুই লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা আছে ২২৮ টাকা, রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের পাঁচ লিটারের বোতল ৫৭০ টাকা, বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের দাম ৫৫৫ টাকা। কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানি রনি জানান, ‘অধিকাংশ সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য প্রতি লিটারে ১০ টাকা করে বেড়েছে। সে অনুযায়ী খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। রূপচাঁদার পাঁচ লিটার এখন ৫২০ টাকায় বিক্রি করছি, যা আগে ৪৮০ টাকা থেকে ৪৯০ টাকায় বিক্রি করতাম। বসুন্ধরার পাঁচ লিটারও ৪৫০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৪৮০ টাকায় বিক্রি করছি।’

তার পাশের দোকানদার জহির জানান, খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে দুই টাকা বেড়ে এখন ৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৮ টাকায়।

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে কারওয়ান বাজারে লোকজন আসেন বাজার করতে। অন্যান্য বাজার থেকে কম দামে এবং সস্তায় ভালো মানের বাজার পাওয়া যায় বলে এই বাজারের চাহিদা এমনিতেই বেশি। তেমনই মহাখালী থেকে এসেছিলেন হাসান মাহমুদ নামের একজন ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ শাকসবজির দাম কমেছে। কিন্তু এরই মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম বেশ খানিকটা বেড়ে গেছে। সবজিতে যে টাকা সেভ করতে পেরেছিলাম পাঁচ লিটার তেল কিনতে, তা চলে গেছে।’ অবশ্য কারওয়ান বাজারে সব পণ্যের দামই তুলনামূলকভাবে কম বলে জানান হাসান।

বাজারে রসুন, আদা ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। অবশ্য কারওয়ান বাজারে দাম কমলেও অন্যান্য বাজারে এর প্রভাব এখনও পড়েনি। কারওয়ান বাজারে দেশি ভালো জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৬০ টাকায়। এছাড়া মিসরের পেঁয়াজ ৩০ টাকা, চায়না ৩২ টাকা এবং হাইব্রিড পেঁয়াজ ৫৯ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

চায়না আদার দাম এখনও দেড়শ টাকা হলেও বাজারে কেরালার ভালো মানের আদা পাওয়া যাচ্ছে প্রতিকেজি ১০০ টাকায়। দেশের পাহাড়ি অঞ্চলের নতুন আদাও বাজারে এসেছে, দাম প্রতিকেজি ১২০ টাকা। চায়না রসুন ১০০ টাকা এবং দেশি রসুন ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মসলা বিক্রেতা তুহিন বলেন, ‘এক মাস আগে আদার দাম খুব বেড়ে গিয়েছিল। এখন দেশি আদা বাজারে এসেছে। ভারতের কেরালা থেকেও আমদানি বেড়েছে। তাই আদার দাম কমে এসেছে।’

কারওয়ান বাজারে এদিন ভালো মানের মুলা ৩০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি একটি ৩০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায় প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১২৫ টাকায় বিক্রি হলেও কোথাও কোথাও তা বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। ফার্মের মুরগির বেঁচাকেনাও আগের থেকে ভালো বলে জানা যায়। ফার্মের ডিমের দামও কিছুটা কমে প্রতি ডজন ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাকিস্তানি মুরগির দাম ২২০ টাকা, গরুর মাংস ৫৫০ টাকা ও খাসির মাংস ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের দাম রয়েছে আগের মতোই। রুই ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কই ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ টাকা, বোয়াল মাছ ৫৫০ টাকা ও ইলিশ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।







 সর্বশেষ সংবাদ

করোনায় আক্রান্ত বিসিবির আম্পায়ার
সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেন জুয়েল আইচ
প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ: পলক
আগাম জামিন চাইলেন পাপুলের স্ত্রী-মেয়ে-শ্যালিকা
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খালে, নিহত ৪
দেশ জাতি ও মানুষের জন্য যেন কাজ করতে পারি: এম.এন.এইচ বুলু
আরো খবর ⇒

 সর্বাধিক পঠিত

মাদারীপুরে ২ টি গাঁজা গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
রাজধানীতে কাল কম্বল বিতরণ উদ্বোধন করবেন জিএম কাদের
কম্পিউটার শিশুদের কি দরকার?
পাথরঘাটা হানাদারমুক্ত দিবস পালিত
‘গোল্ডেন’ সহযোগিদের গা ঢাকা
দেশ জাতি ও মানুষের জন্য যেন কাজ করতে পারি: এম.এন.এইচ বুলু
সিরাজগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেপ্তার
প্রকাশক: এম এন এইচ বুলু
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাহফুজুর রহমান রিমন  
বিএনএস সংবাদ প্রতিদিন লি. এর পক্ষে প্রকাশক এম এন এইচ বুলু কর্তৃক ৪০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বুলু ওশেন টাওয়ার, (১০তলা), বনানী, ঢাকা ১২১৩ থেকে প্রকাশিত ও শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৩৪ ফকিরাপুল, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
ফোন:০২৯৮২০০১৯-২০ ফ্যাক্স: ০২-৯৮২০০১৬ ই-মেইল: [email protected]