হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যায় শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অপ্রতিরোধ্য বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। দক্ষিণ বৈরুতের শহরতলি দাহীহতে গোপন একটি ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ২,০০০ পাউন্ড ওজনের বোমাসহ শতাধিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
নাসরুল্লাহ, যিনি তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে চরমভাবে সতর্ক ছিলেন এবং খুব কমই জনসমক্ষে উপস্থিত হতেন, তিনি সাংগঠনিক আলোচনায় সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা গোপন রাখতেন। কিন্তু হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের গোয়েন্দা নজরধারী এতটাই প্রখর এবং নিখুঁত ছিল যে তেলআবিব আগেভাগেই জানত নাসরুল্লাহ এবং হিজবুল্লাহর অন্যান্য শীর্ষ নেতারা কোন গোপন স্থানে মিলিত হতে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে ঠিক কখন বোমা হামলার নির্দেশ দেয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্ক থেকে হামলা চালানোর অনুমতি দিতে হয়েছিল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সেখানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুদ্ধবিষয়ক ভাষণ দিয়েছিলেন। সম্ভবত, হামলার চালাতে অপেক্ষা করার জন্য খুব কম সময় ছিল বলে মনে হয়েছিল।
ফরাসি সংবাদপত্র লে প্যারিসিয়েনের একটি অসমর্থিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যে গুপ্তচরটি ইসরায়েলিদের জানিয়েছিল যে নাসরুল্লাহ বাঙ্কারে যাওয়ার পথে রয়েছেন তিনি ইরানি ছিলেন। যদি এটি সত্য হয়, তবে তা ভয়াবহ তথ্য হবে, কারণ ইরান হচ্ছে হিজবুল্লাহর প্রধান সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক।
হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে ইসরায়েল বেশ আগে থেকেই সম্ভাব্য হামলার স্থল নজরদারির আওতায় রেখেছিল। অত্যাধুনিক এফ-১৫আই যুদ্ধবিমানের ৬৯তম স্কোয়াড্রনের কমান্ডার যিনি এই হামলা চালিয়েছিলেন, ইসরায়েলি গণমাধ্যমে তাকে শুধুমাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়। তিনি বলেন, যে ক্রুরা এই হামলা চালিয়েছেন তারা 'বেশ কয়েক দিন' ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিল, যদিও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে অনুমতি দেয়া হয়।
এফ-১৫আই যুদ্ধবিমানগুলো মাটির নিচে আঘাত হানতে এবং ধ্বংস করার মতো বিধ্বংসী অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। এর জন্য ব্যাপক পরিমাণে বিস্ফোরক প্রয়োজন হয়েছিল, যা প্রথমে ওপরের ভবনগুলোকে সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।
শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওতে ৮টি যুদ্ধবিমান দেখানো হয়, যেগুলো হাটজেরিম বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আটটি এফ-১৫আই যুদ্ধবিমানকে দেখা যায় উড্ডয়নকালে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত যেগুলো ডানার নিচে এবং পিছনের দিকে আটকানো ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের-নির্মিত বিএলইউ-১০৯ মডেলের ২,০০০ পাউন্ড ওজনের যেসব বোমা ব্যবহৃত হয়েছে, জো বাইডেন প্রশাসন সেগুলো এই গ্রীষ্মের আগে ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে থেকে ফিরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (রুসি) গবেষক এবং বিমানচালনা বিশেষজ্ঞ জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সম্ভবত ২,০০০ পাউন্ডের এসব বোমা দূরনিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার করেছে, যা ভবন বা মাটিতে আঘাত করার পরে মাটির গভীরে ঢুকে পরবে এবং পরে বিস্ফোরিত হবে। 'নিউ অর্ডার' নামের এই অভিযানের সময় প্রায় ১০০টি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং 'প্রতি দুই সেকেন্ডে' বোমা ফেলা হয়েছিল।
চারটি আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে এগুলো, এর মধ্যে তিনটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, শুধুমাত্র ধোঁয়াটে কয়লা ছাড়া। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে সম্পূর্ণ নিবন্ধটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।